নৈরাজ্যের জন্য অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পকে দুষলেন পেলোসি

97

 

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে সৃষ্ট মানবিক সংকটের জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তিনি বলেছেন, সীমান্ত সংকট আমেরিকার সবার জন্য এক মানবিক চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন। ১৪ মার্চ এই সাক্ষাৎকার দেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মার্কিন অভিবাসন নিয়ে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। আর এই নৈরাজ্যের জন্য দায়ী ট্রাম্প।

পেলোসি বলেন, ট্রাম্পের বেপরোয়া নীতির জেরেই এখন অভিবাসনের প্রবাহ শুরু হয়েছে। নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে এখন এই সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভেঙে পড়া সীমান্ত-ব্যবস্থা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সীমান্তে বানের জলের মতো নেমে আসা অভিবাসী, তাঁদের সঙ্গে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের সামাল দিতে অভিবাসন বিভাগ ও সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ব্যর্থ হচ্ছেন। শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই এক লাখের বেশি মানুষ দক্ষিণের সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাঁর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্ত খুব ভালো অবস্থায় ছিল। সীমান্ত নিরাপদ ছিল। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সংরক্ষিত ছিল।

ডেমোক্রেটিক পার্টি বাধার সৃষ্টি না করলে সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের কাজ অনেক আগেই শেষ করতে পারতেন বলে ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে দাবি করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, সীমান্ত দিয়ে আসা নথিপত্রহীন অভিবাসীদের ধরে ছেড়ে দেওয়ার নিয়মের অবসান ঘটিয়েছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় লাভের জন্য জালিয়াতিসহ আদম পাচার বন্ধ করতে পেরেছিলেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দক্ষিণের সীমান্তের ঘটনা আমেরিকাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই ভয়ংকর বিষয়টি তাঁকে দেখতে হচ্ছে। এ জন্য ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করেন।

জনপ্রবাহের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশুকে নিরাপদে রাখার জন্য ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট (ফেমা) কর্মকর্তাদের দক্ষিণের সীমান্তে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য হোমল্যান্ড সেক্রেটারি আলেজান্দ্রো মেওয়রকাস গত শনিবার ফেমা কর্মকর্তাদের সীমান্তে পাঠিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্দেশে ফেমা কর্মকর্তারা সীমান্তে আসা শিশুদের মানবিক আবাসনের ব্যবস্থা করবেন।

ট্রাম্পের সময় সীমান্ত দিয়ে আসা লোকজনের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিকে একটি মানবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য বাইডেন প্রশাসন প্রয়াস চালাচ্ছে বলে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাঁর সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।