‘ক্রিকেটের উন্নয়ন চাইলে মল্লিক-মাহবুবদের সরাতে হবে’

201

সাকিব আল হাসানের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ওলট-পালট দেশের ক্রিকেট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিবিসি) কর্তাব্যক্তিদের রীতিমতো ধুয়ে দেন দেশের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার।

সাকিবের মতো একই সুরে কথা বলছেন দেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি বিশ্বকাপের নামে ক্রিকেট কর্তাদের পিকনিক করা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন।

সাকিব-মাশরাফির মতো একই সুরে কথা বলছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরাও। রোববার সন্ধ্যায় যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপে ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাব্যক্তিদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শফিকুল হক হীরা বলেন, আমি অনেক আগেই বলেছি, আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের কোনো পেশাদারিত্ব নেই। এখন সাকিব-মাশরাফিরা বলছে; তখন ওরা চুক্তির বাধ্যবাধকতার কারণে কিছু বলেনি।

বিসিবিতে পাঁচ-ছয়জনের একটা গ্রুপ আছে, যারা খেলা বোঝে না, আবার তাদের কথা বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ফেলতেও পারেন না। আসলে ওরাই হলো আমাদের ক্রিকেটের জন্য কালপ্রিট। ওদের না সরাতে পারলে ক্রিকেটের উন্নয়ন হবে না।

সেই চার-পাঁচজনের মধ্যে আছে মাহবুব আনাম, সে ক্রিকেট বোর্ডে গত ২০ বছর ধরে আছে। লোকমান হোসেন ভূঁইয়া আছে, সে ক্যাসিনো মামলায় জেলে গেছে। জেলে যাওয়া একজন মানুষ কী করে ক্রিকেট বোর্ডে থাকে? সে পাপন ভাইয়ের বন্ধু হওয়ায় বিসিবির পরিচালক হিসেবে আছে।

তবে সবার আগে ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরাতে হবে ইসমাইল হায়দার মল্লিককে। তার কোনো ক্রিকেট ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। পাপন ভাইয়ের বেক্সিমকো গ্রুপে চাকরির সুবাদে সে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হয়েছে। বিসিবি সভাপতি তার ওপর নির্ভরশীল। ও যদি বলে দেয় হীরাকে ক্রিকেট বোর্ডে চাকরি দিতে হবে, পাপন ভাই তার কথা ফেলতে পারবে না। মল্লিক যদি বলে অমুক ক্রিকেটারকে খেলাতে হবে, টিম ম্যানেজমেন্ট তা শুনতে বাধ্য।

২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ৫০-৬০ জন ক্রিকেট বোর্ডের টাকা খরচ করে পিকনিক করতে গেছে। এটা করেছে ইসমাইল হায়দার মল্লিক। আমার জানা মতে সে ১৪টা ক্লাবের দায়িত্বে আছে। আর সেই সব ক্লাবের কর্মকর্তাদের সে বিশ্বকাপের সময় পিকনিক করতে নিয়ে গেছে। যাদের সে নিয়ে গেছে তারা ক্রিকেট বোর্ডের লোয়ার ক্লাসের কর্মচারী।

তারপর আকরাম খান, সে ক্রিকেট বোর্ডের একটি বড় পদ দখল করে আছে। সে এই পদে থাকে কী করে? ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ইংরেজিতে কথা বলা বাধ্যতামূলক, অথচ আকরাম খানের শিক্ষাগত কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। তাছাড়া আমার জানা মতে, আকরাম খানের কোনো কমিটিও নেই। সে একাই একটা কমিটির প্রধান হয়ে আছে। একটা কমিটি থাকবে না! কত টেস্ট ক্রিকেটার পড়ে আছে, যারা ক্রিকেট বোঝে তাদের সেই কমিটিতে রাখা যেতে পারে।

তারচেয়েও বড় কথা হলো এই যাদের কথা বললাম তাদের মধ্যে একমাত্র আকরাম খান ছাড়া বাকিরা কেউই অফিস করে না। একেকজন একটা করে ডিপার্টমেন্ট নিয়ে বসে আছে; একেকজন একটা ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান হয়ে বসে আছে। অথচ অফিস করে না।

দেখুন আমি যদি সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন, তিন-চার ঘণ্টা করে অফিস না করি, তাহলে আমি একটা পরিকল্পনা তৈরি করলাম; সেটা ঠিকভাবে এক্সিকিউট হচ্ছে কিনা বা কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা দেখতে হবে। একটা ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যানকেই রান করাতে হবে।

ক্রিকেট বোর্ডে আরেকটা ক্লাস আছে বিজনেস ক্লাস। ওরা তো ক্রিকেট খেলতে জানে না। ওদের কীভাবে ইউটিলাইজড করছে, শওকত আজিজ রাসেলকে কীভাবে ইউটিলাইজড করছে। হয়তো রাসেলের কাছে টাকা চাইলে সে এমনিতেই টাকা দেবে।

এনায়েত হোসেন সিরাজ ক্রিকেট বোর্ডের একটা বড় পদ দখল করে আছে। সে কী ক্রিকেট বোর্ডে নিয়মিত আসে? তাছাড়া খালেদ মাহমুদ সুজন ক্রিকেট বোর্ডে এমন কী কাজ করে! সে তো পাপন ভাইয়ের বিপিএলের ঢাকাকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য কাজ করে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে সে কী কাজ করেছে? এখানে যারা কাজ করে গেছে তাদের মধ্য অন্যতম হলো নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও কোচ সালাউদ্দিন।

ক্রিকেটের উন্নয়ন চাইলে দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সৈয়দ আশরাফুল হকের মতো ভালো মানুষগুলো নিয়ে আসতে হবে। বুলবুল এখন ১০ হাজার ডলার বেতন পায়। আশরাফুল হক এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি ছিল, তার মতো লোক যদি আজ বিসিবিতে থাকত তাহলে আইসিসি সভাপতি হতো। দেশের ক্রিকেট আরও একধাপ এগিয়ে যেত।