মামুনুল হক কি তৃতীয় বিয়ে করেছেন?

108

নারায়ণগঞ্জে রিসোর্টের ঘটনার পর থেকেই সঙ্গে থাকা নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসা মাওলানা মামুনুল হক এবার তৃতীয় বিয়ের দাবি করেছেন। এক বছর আগে গাজীপুরের কাপাসিয়ার বাসিন্দা এক নারীকে তিনি বিয়ে করেন বলে ওই নারীর ভাইকে জানান মামুনুল।

জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপি নামে এক নারীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মো. শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি। ওই নারীর ছোট ভাই তিনি। জিডিতে বোনকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের স্ত্রী বলে উল্লেখ করেছেন।

জান্নাতুলের ভাই পরিচয় দেওয়া মো. শাহজাহান জিডিতে উল্লেখ করেছেন, মামুনুল হক তার বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপিকে বিয়ে করেছেন বলে তাকে ডেকে বিয়ের চুক্তিনামা দেখিয়েছেন। তবে তার বোনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। বোনকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের জন্য জিডিতে তিনি আইনি সহায়তা চেয়েছেন।

জিডির তথ্য অনুযায়ী, জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে লিপির বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ার বানারহাওলা গ্রামে। মো. শাহজাহান বলেছেন, গত বুধবার তার বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস লিপির সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। এই সময় বোন জানিয়েছিলেন তিনি মোহাম্মদপুরে দিলরুবা আপার বাসায় আছেন। এর মধ্যে শনিবার (১০ এপ্রিল) মামুনুল হক তাকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে জানান তার বোন জান্নাতুল ফেরদৌস লিপিকে তিনি বিয়ে করেছেন। মামুনুল চুক্তিনামা দেখান। তবে তিনি বোনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করাতে পারেননি। তার বোন বর্তমানে কোথায়, তা জানা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বোনকে নিরাপত্তা দেওয়া ও অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের জন্য তিনি আইনি সহায়তা চান।

জিডিতে উল্লেখ করা শাহজাহানের মুঠোফোনে ফোন করে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে এর আগে একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, মামুনুল সাহেব আমাকে ডেকে নিয়ে আমার বোনকে বিয়ের কথা জানিয়েছেন। ২০২০ সালে তিনি আমার বোনকে বিয়ে করেন বলে জানান। এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাম্প দেখিয়েছেন। তবে এটি কাবিননামা নয়।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ জানান, শাহাজাহান জিডিতে যে তথ্য দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, মামুনুল হক যে নারীকে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করছেন তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে মাস্টার্স করেছেন। ২০১৩ সালে যখন তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন, তখন তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। আড়াই বছর আগে ওই নারীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর ওই নারীকে একটি মহিলা মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেন মামুনুল হক। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এদিকে মামুনুল হকের দ্বিতীয় বিয়ে শরীয়তসম্মতভাবে হয়েছে বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। রবিবার (১১ এপ্রিল) চট্টগ্রামের দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের এক বিশেষ জরুরি সভা শেষে দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে শনিবার (১০ এপ্রিল) রাতে নিজের ও মায়ের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পল্টন থানায় মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ওরফে ঝর্নার ছেলে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। জান্নাত মামুনুল হকের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে গিয়েছিলেন। সেখানে মামুনুল হক তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন।