ইসরাইলের বিমান হামলায় শিশুসহ ২১ ফিলিস্তিনি নিহত

112

ইসরাইলের নিষ্ঠুর বিমান হামলায় গাজা উপত্যকায় শিশুসহ কমপক্ষে ২১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পবিত্র রমজানেও ইসরাইলের নিষ্ঠুরতা থেকে রেহাই পাননি তারা। ইসরাইলের দাবি, উপকূলের দিক থেকে ইসরাইলে রকেট হামলা করেছে হামাস। তার জবাবে তারা বিমান হামলা চালিয়েছে। গাজায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বিমান হামলায় শিশুসহ কমপক্ষে ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ খবর দিয়ে আল জাজিরা বলছে জেরুজালেমে অবস্থিত পবিত্র আল আকসা মসজিদ চত্বর থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার দাবি করে হামাস। এ জন্য তারা আলটিমেটাম বেঁধে দেয়। সেই সময় পাড় হয়ে যাওয়ার পর ফিলিস্তিনের দিকে বেশ কয়েকটি রকেট ছোড়ার পর বিমান হামলা চালায় ইসরাইল।
এ ঘটনা ঘটেছে সোমবার। এদিন সারাদিনই ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদকে ঘিরে উত্তেজনা তীব্র থেকে তীব্র আকার ধারণ করে। ঝড়ো গতিতে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে ইসরাইলি পুলিশ। তারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে রাবার বুলেট, স্টান গ্রেনেড এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এতে কমপক্ষে ৩০০ ফিলিস্তিনি আহত হন। জেরুজালেমে এই উত্তেজনাকর অবস্থায় জরুরি বৈঠকে বসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো বিবৃতি দেয়নি। পাশাপাশি বিশ্বনেতারা উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান। বিভিন্ন দেশ থেকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একপেশে
ওয়াশিংটনভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ ওয়েইস বলেন, ফিলিস্তিনি ভূমি ইসরাইলের দখল প্রশ্নে ১৯৪৮ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র একপেশে নীতি গ্রহণ করেছে। তারা ইসরাইলকেই সমর্থন করে গেছে। এর ফলে এই সমস্যার সমাধান খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। এটাই ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘাতের কারণ। তিনি মঙ্গলবার আল জাজিরাকে বলেছেন, ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করেছে ইসরাইল। এখনও তারা দখলদারিত্ব অব্যাহত রেখেছে। ফিলিস্তিনের ভূমিতে তাদের দখলদারিত্বের বিস্তার ঘটাচ্ছে। হত্যা করছে ফিলিস্তিনিদের। তারা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ১৯৯৩ সালে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। আর অব্যাহতভাবে ইসরাইল তার দখলদারিত্বের বিস্তার ঘটিয়ে যাচ্ছে। সমস্ত সমস্যার মূলে এই দখলদারিত্ব। ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজেদের ভূমিতে থাকতে পারছে না।

তেল আবিবে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ
আল আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের পুলিশ নৃশংস হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনি মুসলিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ইসরাইলের তেল আবিবের কাছে আল লাইড শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। সেখান থেকে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের পতাকা নামিয়ে ফেলছেন এবং তার পরিবর্তে উত্তোলন করছেন ফিলিস্তিনি পতাকা।

নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক
জেরুজালেমে অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনোই বিবৃতি দেয়নি। এ বিষয়ে কূটনীতিকরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বিবৃতি দেয়া হলে তাতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হবে জনগণের মধ্যে। এরই মধ্যে সোমবারের হামলায় আল আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি মুসলিমদের মধ্যে কমপক্ষে ৩০০ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে বেশ কিছু দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানায়।

তুরস্কে তীব্র নিন্দা
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের হাজারো মানুষ। সোমবার দিনশেষে আঙ্কারায় অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাস ও ইস্তাম্বুলে কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন তারা। ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করে স্লোগান দিতে থাকেন- ইসরাইল নিপাত যাক, যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক।