গাজার সীমান্ত বন্ধ করে ত্রাণ আটকে দিলো ইসরায়েল

123

ইসরায়েলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনের গাজার অবস্থা এখন করুণ। সেখানে বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অসংখ্য মানুষ জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। এমতাবস্থায় তাদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ। সে জন্য সীমান্তও খুলে দেয় ইসরায়েল। কিন্তু হামাসের রকেট হামলার কারণে সীমান্ত আবার বন্ধ করে দিয়েছে তারা। ফলে অঞ্চলটিতে ত্রাণবাহী ট্রাক আর ঢুকতে পারছে না। এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি ও আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৮ মে) ইসরায়েল ত্রাণ নেওয়ার জন্য সাময়িকভাবে কারেম আবু সালেম সীমান্ত খোলার ঘোষণা দিলে সেখান দিয়ে ত্রাণবাহী ট্রাক ঢুকতে শুরু করে। তখন এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় জাতিসংঘ। একইসঙ্গে ইসরায়েলকে প্রধান ইরেজ ক্রসিংটিও খোলার আহ্বান জানানো হয়। যেন মানবাধিকার কর্মী এবং সরবরাহগুলো প্রবেশ করতে পারে।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ফিলিস্তিনি বাহিনীর মর্টার হামলায় থাইল্যান্ডের দুই নাগরিক নিহত এবং এক ইসরায়েলি সেনা সামান্য আহত হয় বলে জানায় ইসরায়েলি পুলিশ। এরপরই তারা আবারও সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দেয়।

এদিকে, নরওয়েজিয়ান রিফুজি কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মিডিয়া উপদেষ্টা কার্ল স্কেমব্রি আল জাজিরাকে জানান, গাজার লোকদের এখন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের পাশাপাশি জরুরি মানবিক সহায়তাও দরকার। সে জন্য সীমান্তগুলো খোলা রাখতে হবে। কিন্তু কারেম আবু সালেম ও বেইত হ্যানুন ক্রসিং বন্ধ রাখলে অঞ্চলটিতে ‘শ্বাসবন্ধ হওয়ার’ অবস্থা সৃষ্টি হবে। মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য অস্ত্রবিরতিও দরকার।

জাতিসংঘের সহায়তা সংস্থা ওচা মঙ্গলবার জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫০টি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫২ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পরেছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনি জাতিসংঘ পরিচালিত ৫৮টি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বোমা হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২১২ জন মানুষ নিহত এবং অসংখ্য আহত হয়েছেন। যার মধ্যে প্রায় ১০০ জন শিশু ও নারী আছে। অপরদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, ফিলিস্তিনের হামলায় ইসরায়েলে দুই শিশুসহ নিহতের সংখ্যা ১২ জন।