লস এঞ্জেলেসে বেকারত্ব ও গৃহহীনের সংখ্যা বেড়েছে

65

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসামের একটি প্রচলিত স্লোগান আছে। তিনি প্রায়শই বলেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়া আবারো গর্জে উঠবে’। ক্যালিফোর্নিয়া রিকোভারি প্ল্যানেও তিনি এই স্লোগান ব্যবহার করেছেন।- খবর এলএবাংলাটাইমস‌’র

এই স্লোগানের সত্যতাও অবশ্য রয়েছে। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ায় করোনায় মাত্র আটজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। সামগ্রিক করোনা পরিস্থিতির উন্নতিও হয়েছে। জুন মাসের ১৫ তারিখ থেকে পুরোপুরি সচল হবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ঘুচে যাচ্ছে সামাজিক দূরত্বের মতো স্বাস্থ্যবিধি।

ক্যালিফোর্নিয়ায় এখন দৈনিক শনাক্তের হার সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে। মাত্র দশমিক আট শতাংশ বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিদিন। জানুয়ারি মাসের প্রকোপ থেকে বর্তমানের সংখ্যাটি অত্যন্ত নগন্য।

এছাড়া অর্থনীতির উন্নয়নেও যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের। এপ্রিল মাসে নতুন ১ লাখ
১ হাজার ৮০০টি কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। গেভিন নিউসাম বলেন, ‘পুরো দেশের ৪০ শতাংশ নতুন কর্ম সংস্থান ক্যালিফোর্নিয়া সৃষ্টি করেছে’।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে। দেশজুড়ে বেকারত্বের হারের থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার বেকারত্বের হার বেশি।

২০২০ সালের মার্চ এবং এপ্রিল মাসে ২৭ লাখ ১৪ হাজার ৮০০ জন ক্যালিফোর্নিয়ান চাকরি হারান। গত ৬০ দিনে দেশজুড়ে চাকরি হারানো বাসিন্দার ১৪ শতাংশই ক্যালিফোর্নিয়ার।

বেকারত্বের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে৷ রাজ্যের অ্যামপ্লয়মেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের সূত্র অনুসারে, লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে এপ্রিলে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বেকার রয়েছে।

এছাড়া লস এঞ্জেলেস কাউন্টির জন্য আরো বড় দুইটি ইস্যু হলো আবাসন খরচ ও গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, লস এঞ্জেলেস কাউন্টির আবাসিক বাড়ির দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যম আকারের বাড়ির দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ, রেকর্ড ৬ লাখ ৫৫ হাজার ডলারে ঠেকেছে। মার্চ মাসের থেকে এটি অন্তত ২৫ হাজার ডলার বেশি।

এছাড়া সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগামী চার বছরে করোনা পরবর্তী ধাক্কা সামলে উঠার আগে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বাড়বে ৮৬ শতাংশ। ২০২৩ সাল নাগাদ ৫২ হাজার ৩০০ জন বাসিন্দা গৃহহীন হবেন।