রোকেয়া হায়দার ভয়েস অব আমেরিকা থেকে অবসর নিলেন

41

ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগে চল্লিশ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ইতি টেনে অবসরে গেলেন প্রধান রোকেয়া হায়দার। ২৮ মে বাংলা বিভাগের প্রথম নারী প্রধান রোকেয়া হায়দার তার শেষ কর্মদিবসটি শেষ করে বিদায় নেন ভয়েস অব আমেরিকা থেকে। ভয়েস অব আমেরিকার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় দুই যুগ। বাংলা বিভাগের পাশাপাশি তিনি রোহিংগা ভাষার অনুস্ঠানও চালু করেছিলেন তিনি।

জন্ম যশোরে হলেও বাবার কর্মসুত্রে তাঁর রোকেয়া হায়দারের বেড়ে ওঠা কোলকাতায়। বাবা আবুবকর ফারাজী ও মা মেহেরুন্নেসা বাকার ছয় সন্তানের ভেতর তিনি হলেন তৃতীয়। বড় বোন সুফিয়া আমিন এক সময় প্রখ্যাত নজরুল সংগীত শিল্পী ছিলেন। কোলকাতার সেন্ট জন্স বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শুরু । পরে ইডেন কলেজে পড়েন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাস্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন। তারপর ষাটের দশকে স্বামী হায়াদার তাকির কর্মসুত্রে চলে যেতে হয় চট্টগ্রাম। রোকেয়া হায়দারের বেতার জীবনের শুরু কোলকাতায় নানার হাত ধরে শিশুমহলে মাইক্রোফোনের সাথে মিতালী, স্কুল কলেজে পড়াশুনোর ফাঁকে ফাঁকে বেতারে নাটক ও অনুস্ঠান উপস্থাপনা দিয়ে। ১৯৬০ এর দশকেই চট্রগ্রাম বেতারে নিয়মিত অনুষ্ঠান ঘোষিকা হিসেবে কাজ করেন।

১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম বেতারে আঞ্চলিক সংবাদ পাঠ দিয়ে শুরু হয় তাঁর সংবাদ উপস্থাপনার জীবন। তবে পেশাদার সাংবাদিকতার শুরু ৭৪ সালে ঢাকা বেতার ও টিভির নিয়মিত খবর পড়া দিয়ে। স্পস্ট উচ্চারণ , বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর ও আত্মপ্রত্যয়ী মনোভাবের কারনে স্বল্পকালের মধ্যেই রোকেয়া হায়দার খ্যাতির শীর্ষ্ পৌঁছে যান।

১৯৮১ সালে বিশ্বখ্যাত ভয়েস অব আমেরিকার আমন্ত্রণে চলে আসেন ওয়াশিংটন ডিসিতে। পুরো খবর পড়াই নয় পুরোদস্তর সাংবাদিকতার দায়িত্ব নিতে হয় তাঁকে। রোকেয়া হায়দার ভিওএ বাংলা বিভাগের ম্যানেজিং এডিটরের দায়িত্ব লাভ করেন। ২০১১ সালের জুন মাস থেকে রোকেয়া হায়দার বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে কোন আন্তর্জাতিক মাল্টিমিডিয়া প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগে তিনিই প্রথম মহিলা প্রধান।রোকেয়া হায়দারের ভয়েস অব বাংলা বিভাগ তাঁর নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুস্ঠানের প্রসার ও প্রচারের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে।