‘স্লিম’ হয়েছেন কিম জং উন

82

ফের আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিং জং উন। এবার তার স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে আসা তার একটি ছবিতে দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়ার এই নেতা বেশ স্লিম হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, কিম জং উনের বাবা কিম জং ইল ২০১১ সালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) মারা যান। এরপর উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় বসেন কিম জং উন। ওই সময় ভারি গঠনের কিম জং উন বিশ্বে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেন।

কিন্তু গত শনিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কিমের যে ছবি প্রকাশ করেছে, তাতে এক ভিন্ন কিমকে দেখা গেছে। একমাস পর গত সপ্তাহে কিম জং উনকে রুলিং পার্টির সঙ্গে এক ছবিতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলভিত্তিক ওয়েবসাইট কিম জং উনের সেই ছবি বড় করে প্রকাশ করেছে। ওই ছবিতে ৩৭ বছর বয়সী কিম জং উনকে বাম হাতের কবজিতে ১২ হাজার ডলার মূল্যের প্রিয় ঘড়ি পরা অবস্থায় দেখা গেছে। কিন্তু ২০২০ নভেম্বর এবং চলতি বছরের মার্চ মাসে নেওয়া কিমের ছবির তুলনায় নতুন ছবিতে তাকে বেশ হালকা দেখা গেছে।

তবে কিমের পরিবর্তিত এই অবস্থা অসুস্থতাজনিত কারণে, নাকি সচেতনভাবে তিনি ওজন কমিয়েছেন; রিপোর্ট থেকে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একজন বিশ্লেষক উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যমে বলেছেন, বাড়িতে বসে কিম জং উন ওজন কমিয়েছেন।

পর্যবেক্ষকরা কিমের স্বাস্থ্য এবং লাইফ স্টাইল পর্যাবেক্ষণ করে জানিয়েছেন, কিম জং উন তার স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ সংগ্রাম করেছেন।

গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, কিম জং উনের ওজন ১৪০ কেজি। ২০১১ সালে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতা গ্রহণের পর তার ওজন প্রতি বছর গড়ে ৬-৭ পাউন্ড বেড়েছে।

কিমের স্বাস্থ্য জল্পনার একটি সাধারণ বিষয়। ২০১৪ সালে তিনি প্রায় ৬ সপ্তাহ দৃশ্যের বাইরে চলে যান। এরপর তাকে লাঠি হাতে হাঁটতে দেখা যায়। এর কয়েকদিন পর দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেন, গোড়ালি থেকে ফোঁড়া অপসারণে কিমের সার্জারি করা হয়েছে।

গত বছরের মার্চে উত্তর কোরিয়ার বসন্তকালীন সময়ে গুজব রটে যে, হার্ট সার্জারি করে কিম জং উন মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিছু রিপোর্টে তার মৃত্যুরও খবর প্রকাশ করা হয়। তবে কিম ফের সামনে আসার পর গ্রহণযোগ্য একটি সূত্র জানায়, করোনা মহামারিতে কিম নিজেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন করে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন।