কেন বিচ্ছেদে চিত্রনায়িকা মাহী?

74

বাংলাদেশের নন্দিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহী বিবাহবিচ্ছেদে যাওয়ার পর থেকে সারা দেশে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে।

তার এই বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে নানা ধরনের কথা চলছে চিত্রজগতে। বিশেষ করে মাহীর ভক্তরা অনেক অবাক হয়েছেন যে এত পছন্দের মানুষের সঙ্গে বিচ্ছেদ হলো কী করে?

আর এ বিস্ময়ের মূল কারণ মাহী নিজেই। কারণ মাহী কখনও তার সাবেক স্বামী অপুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। এমনকি ডিভোর্সের পরও তিনি বলেছেন যে, অপুর সঙ্গে তার কোনো মনোমালিন্য নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই তার সাবেক স্বামীকে উদ্দেশ করে আবেগী কথা বলছেন। সুখকর স্মৃতি টেনে আনছেন সবার সামনে।

স্বাভাবিকভাবেই তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে- যদি মনোমালিন্যই না থাকে, যদি এতই পছন্দ করেন তাহলে বিচ্ছেদের কারণ কী?

এ বিষয়ে মাহীর সাবেক স্বামী অপুও বলছেন, তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে।

তাহলে সমস্যাটা কোথায়? ডিভোর্স চান কেন তারা। অনেকেই ধারণা করছেন, বিয়ের পর থেকে মাহীর হাতে ছবির সংখ্যা কম ছিল, কাজের সংখ্যা কম ছিল। এছাড়া বাংলাদেশে একটা প্রচলিত রীতি রয়েছে যে বিবাহিত নায়িকাদের সিনেমা দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখেন না। সেই পুরনো প্রচলিত রীতির কারণেই কি মাহী বিচ্ছেদে গেল? এ নিয়ে কানাঘুষা চলছে খোদ এফডিসিতেও।

চলচ্চিত্রপাড়ার অনেকেই বলছেন, সংসার সামলাতে গিয়ে হয়তো মাহীর ক্যারিয়ার নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। এছাড়া বিচ্ছেদের কোনো নির্দিষ্ট কারণও বলতে পারছেন না মাহী।

অন্যদিকে নিন্দুকেরা বলছেন, মাহীর নিশ্চয়ই গোপন প্রেম হয়েছে। কিন্তু সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো মন্তব্যও করতে চান না চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কেউ। কারণ মাহীর কয়েক বছরের সংসার জীবনে তার নামে কোনো স্ক্যান্ডালও নেই।

এ বিষয়ে মাহীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বারবারই একটি কথাই বলেছি, ঝগড়া-ঝাটি, মনোমালিন্য কিংবা তার কোনো পরকীয়া অথবা আমার কোনো পরকীয়া যেগুলো মানুষ প্রথাগতভাবে চিন্তা করে- তার কোনো কিছুই ঘটেনি। বিচ্ছেদের বিষয়টি আমাদের একান্তই ব্যক্তিগত।’

এত কিছুর পরও সংসার ভাঙার কারণ প্রকাশ না করায় মাহীর ভক্ত এবং চলচ্চিত্রে তার সহকর্মীরা বিব্রত। তবে কেউ কেউ বলছেন কী কারণে বিচ্ছেদ হলো তা হয়ত শিগগিরই বেরিয়ে আসবে।

এদিকে একটি গণমাধ্যম সম্প্রতি মাহীর নতুন বিয়ের খবর প্রকাশ করেছে। সেখানে রাকিব নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার ছবিও প্রকাশ করেছে। বাগদান, বিয়েসহ বেশকিছু তথ্য সন্নিবেশিত করা আছে সেই রিপোর্টে। তবে এ বিষয়ে মাহীর কোনো বক্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, নতুন সম্পর্কের কারণেই আগের সংসারের ইতি টানলেন মাহী- এমন কথাও বলছেন কেউ কেউ।

তবে ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, বিয়ে বিচ্ছেদের মূল কাহিনী অচিরেই প্রকাশ পাবে বলে মনে করছেন মাহীর ঘনিষ্ঠরা।