কাপড়ের মাস্ক কতটা কার্যকর

40

সঠিক নিয়ম মেনে এবং নিয়মিত মাস্ক ব্যবহারের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি সিংহভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব। হাসপাতালের বাইরে জনসাধারণকে ঘ৯৫ মাস্ক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়, কারণ এটি স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য অধিকতর উপযোগী।

আমাদের দেশের মানুষের মাঝে কাপড়ের মাস্ক, সার্জিক্যাল মাস্ক এবং চীনে প্রস্তুতকৃত কঘ৯৫ মাস্ক বেশ জনপ্রিয়। কম খরচ ও বারবার ব্যবহারের উপযোগিতার বিষয়টি মাথায় রাখলে কাপড়ের মাস্ক জনসাধারণের জন্য খুবই সুবিধাজনক।

বহির্বিশ্বেও কাপড়ের মাস্কের ব্যবহার বর্তমানে বেশ ফ্যাশনেবল ও জনপ্রিয়। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন আছে, করোনা সংক্রমণ কমাতে কাপড়ের মাস্ক কতটা কার্যকর বা কিভাবে এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।

করোনাভাইরাসের আকার অতিক্ষুদ্র হওয়ায় মনে করা হয়, বায়ুবাহিত সংক্রমণ রোধে কাপড়ের মাস্ক সুরক্ষা দেয় কম, তবে কথা বলা বা হাঁচি-কাশির সঙ্গে নির্গত রেসপিরেটরি ড্রপলেট আটকাতে এটি সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র এবং অন্যান্য দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো জনসাধারণের মাঝে করোনা সংক্রমণ কমাতে কাপড়ের মাস্ক ব্যবহারের সুপারিশ করেছে।

কাপড়ের মাস্কের কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে মাস্ক তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান ও এটি কতটা পানি প্রতিরোধী, কিভাবে মাস্কটি প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এর ফিটিংয়ের ওপর। গবেষণায় প্রমাণিত, ভালোভাবে মুখ, নাক ও চিবুক ঢেকে এবং দুপাশে কোনো ফাঁক না রেখে আঁটোসাঁটোভাবে মাস্ক পরলে তা করোনা প্রতিরোধে অধিকতর কার্যকর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে, একাধিক স্তরবিশিষ্ট কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, যা শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়ক পুরু কাপড় (যেমন সুতি) এবং নিবিড়ভাবে বোনা (আলোর বিপরীতে ধরলে আলো অতিক্রম করবে না) দুই স্তর ও ফিল্টার ধরনের কাপড়ের তৈরি (যেমন পলিপ্রোপিলিন); একটি মধ্যবর্তী তৃতীয় স্তর থাকবে। মধ্যবর্তী ফিল্টার স্তরের পরিবর্তে মাস্কের ভেতরে একটি পকেটে ডিসপজেবল (এমনভাবে তৈরি যে প্রতিবার ব্যবহার করার পর ফেলে দিতে হয়) ফিল্টারও ব্যবহার করা যায়।

খেয়াল রাখতে হবে যাতে কাপড়ের মাস্কে শ্বাস-প্রশ্বাসের ভালভ্ বা ভেন্ট না থাকে। যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সারেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, মুখমণ্ডলের সঙ্গে ভালোভাবে ফিটিংসম্পন্ন এবং তিন স্তরের কাপড়ের মাস্ক করোনা সংক্রমণ হ্রাসে সার্জিক্যাল মাস্কের মতোই কার্যকর হতে পারে।

কাপড়ের মাস্ক স্পর্শ করার আগে হাত স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুতে হবে এবং মাস্কে কোনো ছেড়া বা ময়লা আছে কিনা পরীক্ষা করতে হবে। মাস্ক পরে থাকাবস্থায় অকারণে তা স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মাস্ক খোলার আগে হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে এবং মাস্কের ফিতা ধরে খুলে মুখ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে। যদি মাস্কটি ময়লা বা ভেজা না হয়, সেটা আবার ব্যবহার করতে চাইলে একটি পরিষ্কার প্লাস্টিকের ব্যাগে সংরক্ষণ করতে হবে।

সবসময় মাস্কের ফিতা ধরে প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে বের করতে হবে এবং মাস্কটি খোলার পর হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুতে হবে। প্রতিদিন ব্যবহার শেষে কাপড়ের মাস্কটি সাবান/ডিটারজেন্ট ও গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া অপরিহার্য।

মাস্কের ফিটিং ও ফিল্টারিং উন্নত করার মাধ্যমে এর কার্যকারিতা সর্বোচ্চ করা সম্ভব, আর এ জন্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে পরামর্শ দিচ্ছেন করোনা সংক্রমণের অতি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ডাবল মাস্কিং বা দুটি মাস্ক একসঙ্গে ব্যবহার করার, যেখানে সার্জিক্যাল মাস্কের ওপর কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, করোনা রোগী বা করোনার উপসর্গ রয়েছে যাদের এবং যারা করোনা রোগীর সেবাকাজে নিয়োজিত, তাদের জন্য সার্জিক্যাল মাস্ক ও কঘ৯৫ মাস্কই বেশি উপযোগী। করোনার উপসর্গবিহীন ব্যক্তি করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে জনসমাগম স্থলে কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

দেশীয় বাজারে ও অনলাইনে হরেক ডিজাইনের ফ্যাশনেবল কাপড়ের মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে, যা এ সময়ে অনেকের কর্মসংস্থানের উৎস হতে পারে। কিন্তু সঠিক উপাদান, তৈরির পদ্ধতি ও মাপ মেনে কাপড়ের মাস্ক তৈরি করলে তবেই তা করোনা সংক্রমণ কমাতে উপযোগী হবে এবং এ ব্যাপারে মান নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

ড. খন্দকার রাইসা সামিহা : এমপিএইচ ক্যান্ডিডেট, ইউনিভারসিটি অফ অ্যালবার্টা, কানাডা