মাইক্রোসফটে বড় রকমের সাইবার হামলা

12

মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জ সার্ভারে বড় রকমের সাইবার হামলা হয়েছে। এ সাইবার হামলার জন্য চীনকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। বলা হয়েছে, এ বছরের শুরুর দিকে ওই সাইবার হামলা চালানো হয়। এতে বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে ৩০ হাজার সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে পশ্চিমা নিরাপত্তা বিষয়ক সার্ভিস দানকারীরা মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে গুপ্তচরবৃত্তি থেকে চীন আক্রমণ চালিয়ে সব গোপনীয়তা ভেঙে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার টার্গেট নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চীনের সাইবার আচরণ নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। চীনের মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটির বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে গুপ্তচরবৃত্তি এবং ভয়াবহ বেপরোয়া আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে হ্যাকিং করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল চীন। তারা বলেছিল, সব রকম সাইবার অপরাধের বিরোধী তারা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা বলছে, এর আগে চীন যে ধরনের হ্যাকিং করেছে, বর্তমান প্রেক্ষাপট তার চেয়ে অধিক গুরুত্বর। এ বছরের জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে চীনের সঙ্গে সম্পর্কিত হ্যাফনিয়াম নামের একটি গ্রæপ মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জে প্রবেশ করে। বৃটেন বলেছে, এই হামলা বড় রকমের গুপ্তচরবৃত্তি। এর মধ্য দিয়ে তারা ব্যক্তিগত তথ্য এবং ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি সম্পর্কে তথ্য তাদের হাতে পেয়ে গেছে। বিশেষ করে তারা প্রতিরক্ষা বিষয়ক কন্ট্রাক্টরস, থিংক ট্যাংকস এবং ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করে।
নিরাপত্তা বিষয়ক একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি, সাইবার অপারেটররা চীনের গোয়েন্দাদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং তাদের সজ্ঞাতে এসব হ্যাকার জানুয়ারিতে মাইক্রোসফটকে ঝুঁকিতে ফেলে। যদি এটাই হয়, তাহলে এটা হবে আরেকটি গুপ্তচর বিষয়ক অপারেশন। কিন্তু ফেব্রæয়ারিতে এই ধারার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। এ সময় চীনভিত্তিক গ্রæপগুলো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করে। তারা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি এবং সরকারগুলোকে টার্গেট করতে থাকে।
চীনের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বৃটিশ সরকার অভিযোগ করেছে। তারা এসব বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ দিয়েছে চীনকে। মাইক্রোসফট তাদের ঝুঁকির কথা জানায় ২রা মার্চ। এ সময়ে বিশ্বের অন্য হ্যাকাররা ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে মাইক্রোসফটের সঙ্গে ব্যবসা করা ছোট এবং মাঝারি আকারের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠন মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। পশ্চিমা সরকারগুলো চীনকে দায়ী করে এসব হ্যাকারদের ভাড়া করার জন্য। একই সঙ্গে চীন চেয়েছে মাইক্রোসফটের সার্ভারের সঙ্গে তাদের সংযুক্তি।
বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বার বার বেপরোয়া এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে চীন সরকারের প্রতি। কিন্তু তারা আহ্বানে কোনো সাড়া দেয়নি। পক্ষান্তরে রাষ্ট্র মদতপুষ্টরা তাদের হামলা বৃদ্ধি করেছে। ওদিকে হোয়াইট হাউজ বলেছে, সাইবার হামলার কারণে চীনের বিরুদ্ধে বাড়তি ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বলেছে, এই হ্যাকের ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সরকার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানি অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়েছে।