জাপান, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডে রেকর্ড সংখ্যক করোনা সংক্রমণ

49

বিশ্ব অলিম্পিকের আয়োজক জাপানের রাজধানী টোকিও, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। শনাক্ত হওয়া এসব রোগী অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত বলে দেশগুলোর সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

জাপান, টোকিওতে জারি করা জরুরি অবস্থার আওতায় নগরীর নিকটবর্তী আরও তিনটি প্রিফেকচারকে এনে এর মেয়াদ অগাস্টের শেষ পর্যন্ত বাড়ানোর একদিন পরই রেকর্ড রোগী শনাক্ত হল। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় টোকিওর পশ্চিমের ওসাকা প্রিফেকচারেও জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অলিম্পিক গেমসের সঙ্গে জড়িত ২১ জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে, এতে ১ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২৪১ জনে দাঁড়িয়েছে।

মহামারীর নতুন হটস্পট হয়ে ওঠা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়াতেও সর্বোচ্চ সংখ্যক দৈনিক আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মালয়েশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৭৮৬ জন মানুষ। দেশটির সরকার যেভাবে মহামারী মোকাবেলার চেষ্টা করছে তার বিরুদ্ধে এদিন রাজধানী কুয়ালালামপুরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে শতাধিক লোক। বিক্ষোভকারীরা কালো পতাকার পাশাপাশি ‘ব্যর্থ সরকার’ লেখা প্ল্যাকার্ডও বহন করছিল।

থাইল্যান্ড এদিন রেকর্ড ১৮৯১২ জন নতুন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে। এতে দেশটিতে শনাক্ত রোগীর মোট সংখ্যা পাঁচ লাখ ৯৭ হাজার ২৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একইদিন দেশটিতে রেকর্ড ১৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, এতে এখানে মহামারীতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪৮৫৭ জনে দাঁড়ায়। দেশটির রাজধানী ব্যাংককে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০ শতাংশ ও সারা দেশে ৬০ শতাংশ ভাইরাসটির ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত বলে সরকার জানিয়েছে।

গত চার সপ্তাহে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ৮০ শতাংশ বেড়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাসুস জানিয়েছেন। মহামারির বিরুদ্ধে গত দেড় বছরে অনেক কষ্টে যেসব সাফল্য অর্জিত হয়েছিল- ডেল্টার কারণে আজ সেসবের প্রায় সবই হুমকির সম্মুখীন।