দ্বিতীয় ম্যাচেও উড়ে গেল অস্ট্রেলিয়া

201

আগে বোলিং করুক বা ব্যাটিং, অস্ট্রেলিয়া সেই অস্ট্রেলিয়াই। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ১৩১ রানের জবাবে ১০৮ রানে অলআউট হয়ে ২৩ রানে হেরেছিলেন ম্যাথু ওয়েডরা। দ্বিতীয়টিতে আগে ব্যাট করেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। আগের ম্যাচে স্পিনে নাকাল হওয়া অস্ট্রেলিয়া এবার ঘায়েল হলো বাংলাদেশের পেসে।

বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি ২০-তে অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০-তে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। কাল আগে ব্যাট করে মোস্তাফিজুর রহমান (৩/২৩) ও শরীফুল ইসলামের (২/২৭) দারুণ বোলিংয়ের কোনো জবাব না দিতে পেরে সাত উইকেটে ১২১ রানে থমকে যায় অস্ট্রেলিয়া।

জবাবে বাংলাদেশও ৬৭ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে ৪৪ বলে ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ম্যাচ বের করে নেন দুই তরুণ আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান। হ্যাজলউডকে চার মেরে আট বল বাকি থাকতেই দলকে জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দেন ৩১ বলে ৩৭* রানের দারুণ ইনিংস উপহার দেওয়া আফিফ।

নুরুল অপরাজিত থাকেন ২২ রানে। এ ছাড়া সাকিব আল হাসান ১৭ বলে ২৬ ও মেহেদী হাসান করেন ২৩ রান। শুক্রবার একই ভেন্যুতে সিরিজের তৃতীয় টি ২০। সেদিন জিতলে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ের উচ্ছ্বাসে ভাসবে টাইগাররা।

প্রথম ম্যাচে ১৩২ তাড়া করতে নেমে মাত্র ১০৮ রানে অলআউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। টি ২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে যা বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার নজির। কাল অবশ্য তা হয়নি। টানা দ্বিতীয়বার টস জিতে ওয়েডরা ব্যাটিং নিলেন। অস্ট্রেলিয়া এবার প্রথমে ব্যাট করে পুরো ২০ ওভারে ১২১ রান তোলে সাত উইকেটে।

প্রথম ম্যাচে রানের খাতা খোলার আগে আউট হওয়া অ্যালেক্স ক্যারি এবার স্পিনার মেহেদী হাসানের শিকার হন। ১১ বলে ১১ রান করে ক্যারি ক্যাচ দেন নাসুম আহমেদকে। অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় উইকেট হারায় ষষ্ঠ ওভারে। মোস্তাফিজুর রহমান নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট পান। তার স্লোয়ারে বোল্ড জশ ফিলিপে (১৪ বলে ১০)। প্রথম ১০ ওভারে অস্ট্রেলিয়া ৫৩ রান তোলে দুই উইকেট হারিয়ে।

অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় উইকেট হারায় ১৫তম ওভারে। সাকিব আল হাসান নিজের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে প্রথম উইকেট পান। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান ময়সেস হেনরিকেস। ২৫ বলে ৩০ রান করেন তিনি তিনটি চার ও একটি ছয়ের সহায়তায়। ফর্মে থাকা মিচেল মার্শকে ফেরান শরীফুল ইসলাম। উইকেটের পেছনে ক্যাচ নেন নুরুল হাসান। দ্বিতীয় ম্যাচেও সমান ৪৫ রানে আউট হন এই অসি ব্যাটসম্যান। প্রথম টি ২০-তে তিনি ৪৫ রান করেছিলেন ৪৫ বলে। কাল তিন বল কম খেলে সমান রান করেন মার্শ পাঁচটি চারের সহায়তায়।

মোস্তাফিজ আক্রমণে ফিরেই পরপর দুই বলে তুলে নেন ওয়েড ও অ্যাগারকে। ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার বোল্ড করেন অসি অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডকে। বাঁ-হাতি উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ওয়েড সাত বলে মাত্র চার রান করেন। পরের বলে অ্যাশটন অ্যাগারকে (০) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মোস্তাফিজ। হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়নি তার। বাঁ-হাতি মিচেল স্টার্ক বেঁচে যান পঞ্চম বল ওয়াইড হওয়ায়। টার্নারকে ফেরান শরীফুল। কভারে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচে বিদায় নেন অস্ট্রেলিয়ার শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান টার্নার (৩)।

মোস্তাফিজ চার ওভারে ২৩ রানে তিনটি এবং শরীফুল ২৭ রানে দুটি উইকেট নেন।