যুক্তরাষ্ট্রে ফের দিনে গড়ে আক্রান্ত এক লাখ

113

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি করেছে। ফলে শীতের পর নতুন করে আবার গড়ে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা এখন এক লাখ। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তারা টিকা নিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে শতকরা ৭০.৬ ভাগই কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নিয়েছেন। অন্যদিকে শতকরা ৬০.৯ ভাগ মানুষ পূর্ণাঙ্গ টিকা নিয়েছেন। এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি)। এখনও সেখানে লাখ লাখ মানুষ টিকা নেননি। যেসব রাজ্যে টিকা নেয়ার হার খুব কম সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে।

এমন রাজ্যের মধ্যে রয়েছে ফ্লোরিডা ও টেক্সাস। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

এ সপ্তাহে সিএনএনের পরিচালক রোচেল ওয়ালেনস্কি বলেছেন, আমাদের মডেল বলে, যদি আমরা জনগণকে টিকা না দিই, তাহলে দিনে কয়েক লাখ মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন, যেমনটা হয়েছিল জানুয়ারির শুরুতে।
জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পিক-এ বা সর্বোচ্চে পৌঁছে। এই সংখ্যা আড়াই লাখ। তবে নভেম্বরে গড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছিল। সেই সংখ্যা অতিক্রম করতে যুক্তরাষ্ট্রে সময় লাগলো প্রায় ৯ মাস। দিনে সর্বনিম্ন গড় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজারে এসে দাঁড়ায় জুনে। কিন্তু তার মাত্র ৬ সপ্তাহ পরেই সেই সংখ্যা এখন এক লাখ ৭ হাজার ১৪৩। হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক মাইক হান্না জানাচ্ছেন, টিকা দেয়া এবং হাসপাতালে ভর্তির মধ্যে স্পষ্ট একটি সম্পর্ক আছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, টিকা নেয়া ব্যক্তিরাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু টিকা না নেয়া ব্যক্তিদের তুলনায় তাদের মারাত্মক অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম।

মাইক হান্না বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যের গভর্নর টিকা দেয়ায় সমর্থন প্রকাশ করেননি এর আগে। কিন্তু আবার যখন সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন তারা মন পরিবর্তন করছেন। কিন্তু মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধ আছে। তিনি আরো বলেন, দক্ষিণের রাজ্যগুলো মুখে মাস্ক পরার পুরো বিরোধী। অন্য রাজ্যগুলো, বিশেষ করে পূর্বের, এখন মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে।
সিডিসির মতে, বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত কমপক্ষে ৪৪ হাজার মার্কিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে এই সংখ্যা শতকরা ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। জুনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন যেসব মানুষ, এই সংখ্যা তার প্রায় চারগুন। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কমপক্ষে এক লাখ ২০ হাজার। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে সতর্কতা দিয়ে এসেছেন। তারা বলেছেন, যেসব রাজ্যে টিকা দেয়ার হার খুব কম, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাবে।

গত সপ্তাহে দেশের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রধান মেডিকেল উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফাউচি বলেছেন, সামনে আরো দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিনিদের টিকা নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, টিকা না নেয়া মানুষের মধ্যে আবার মহামারি ছড়িয়ে পড়ছে। ১লা আগস্ট তিনি বলেছেন, আক্রান্তের সংখ্যা ত্বরান্বিত হচ্ছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সাত দিনের গড় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এদিন আরো বলেন, প্রায় ১০ কোটি মানুষ, যারা টিকা নেয়ার বৈধ বয়সে, তারা এখনও টিকা নেননি।

গত সপ্তাহে ফ্লোরিডা রাজ্য প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তির দিক দিয়ে নিজের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আক্রান্ত এবং হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে যে গড় আছে, তার চেয়ে এই হার এ রাজ্যে শতকরা ২০ ভাগের বেশি। এ রাজ্যে রিপাবলিকান দলের গভর্নর রন ডি’শান্তিস। তিনি নতুন করে নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন তিনি। বলেছেন, রাজ্যজুড়ে তিনি মুখে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার নির্দেশ দেবেন না। এ ছাড়া অন্য যেসব পদক্ষেপ আছে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে, তাও তিনি জারি করবেন না।

তিনি এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্প্রতি বাকযুদ্ধে লিপ্ত হন। ডি’শান্তিস প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, তিনি ফ্লোরিডার জনগণের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চান। পক্ষান্তরে ডি’শান্তিসকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তিনি বলেছেন, ডি’শান্তিস যদি করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করতে রাজি না হন, তাহলে স্থানীয় কর্মকর্তার পদ থেকে তাকে সরে যাওয়া উচিত।

সিডিসি বলেছে, পুরো যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে যে পরিমাণ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তার মধ্যে শতকরা ৪১ ভাগই ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, আলাবামা, মিসিসিপি, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা এবং কেন্টাকির। টেক্সাসের হিউজটনের প্রধান মেডিকেল অফিসার ড. ডেভিড পারসে বলেন, হিউজটন এলাকার হাসপাতালগুলোতে রোগীভর্তি এম্বুলেন্স অপেক্ষা করছে। এসব রোগীকে এম্বুলেন্স থেকে নামানো যাচ্ছে না। কারণ, হাসপাতালে কোনো বেড ফাঁকা নেই। এর ফলে জরুরি ফোন ৯১১ তে কল দেয়ার পর প্রতিক্রিয়া পেতে নাগরিকদের অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তিনি বৃহস্পতিবার বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহ বা তারও পরে কি ঘটবে জরুরি বিভাগগুলোতে তা বুঝতে পারছি না।