কাঠগড়ায় আইনজীবীর যে কথায় অঝোরে কাঁদতে থাকেন পরীমনি

64

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি এখন দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাসের আদালত তার দুদিনের রিমান্ড আদেশ দেন।

প্রথম দফা রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আদালতে আনা হলে পরীমনি কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করেন। ক্ষোভ ঝাড়েন। আবার অঝোড়ে কাঁদতেও দেখা গেছে তাকে।

এদিন দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে প্রথমে পরীমনিকে আদালতে তোলা হয়। এরপর একে একে প্রযোজক রাজসহ অপর আসামিদেরও আনা হয়। পরীমনিসহ সব আসামিকে এজলাসের ডকে (আসামি রাখার নির্ধারিত স্থান) রাখা হয়। আদালতে বিচারক প্রবেশ করলে দুপুর ১টা ৫৭ মিনিটের দিকে মামলার শুনানি শুরু হয়।

পরীমনিকে আদালতে হাজির করার পর তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী তার সঙ্গে মামলার বিষয়ে কথা বলতে যান।

এ সময় সিআইডির নারী পুলিশ সদস্যরা পরীমনির সঙ্গে কথা বলা যাবে না জানিয়ে আইনজীবীদের জানান এবং পরীমনিকে ঘিরে রাখেন। এর পর বিচারক আদালতে উঠলে পরীমনি মাথায় দুই হাত দিয়ে কাঠগড়ার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন কিছুক্ষণ।

পরীমনির আইনজীবীরা দাবি করেন, পরীমনিকে এক কাপড়ে রাখা হয়েছে। এমন অভিযোগও উঠেছে যে, নায়িকার ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

আসমিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, বিশ্বের ১০০ জন নায়িকার তালিকার মধ্যে পরীমনির নাম রয়েছে। সে সামথিং। ১২২ ঘণ্টা তিনি এক ড্রেসে রয়েছেন। তিনি তো একজন নায়িকা। তার তো একটা লাইফস্টাইল আছে। যখন আসামিপক্ষের আইনজীবী এ কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই পরীমনি আদালতে ডকে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। বেশ কয়েকবার তাকে চোখ মুছতে দেখা যায়।

জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, পরীমনিকে এক ড্রেসে রাখা হয়নি। তিনি রিমান্ডে গিয়েও ড্রেস পরিবর্তন করেছেন। এখানে আসার সময় তিনি আবারও আগের ড্রেসটিই পরেছেন। এটিও তার একটা রাজনীতি।

পরীমনির আইনজীবীরা আরও বলেন, পরীমনি অসুস্থ এবং তিনি একজন মেয়ে মানুষ। তার বাসা থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে প্রত্যেকের দুদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

পরে পরীমনিকে আদালত থেকে বের করার সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বলতে থাকেন, ‘সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা তদন্ত করেন, আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। আপনারা সাংবাদিক কী করছেন। এর পর দ্রুতগতিতে পরীমনিকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ৩ আগস্ট রাতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে শরিফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং তার সহযোগী মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা গুলশান, বারিধারা ও বনানীসহ ডিজে পার্টি আয়োজনের বেশ কয়েকটি স্থানের তথ্য দেয়। এ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েদা শাখা ও র‌্যাব ১-এর অভিযানিক দল বনানী এলাকায় পর দিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পরীমনি, নজরুল ইসলাম রাজ, আশরাফুল ইসলাম দীপু ও সবুজ আলীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।