কাবুল ছাড়া সব বড় শহর তালেবানের নিয়ন্ত্রণে

22

ঝড়ের গতিতে যেভাবে তালেবান আফগানিস্তানের একের পর এক বড় বড় প্রাদেশিক শহর কব্জা করছে, তাতে রাজধানী কাবুলের পতনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ঘানি সরকার।

রোববার কোনো লড়াই ছাড়াই আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর জালালাবাদ দখল করে নিয়েছে তালেবান। এই শহরটির পতনের মধ্য দিয়ে একমাত্র রাজধানী কাবুল ছাড়া দেশটির আর সব গুরুত্বপূর্ণ শহরে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হল।

শনিবার দেশটির উত্তরের শহর মাজার-ই-শরীফ দখল করে তালেবানরা। সরকারি বাহিনীগুলোর এমন বিপর্যয়ের পর আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ছে।

কাবুলে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়াই করবে নাকি আত্মসমর্পণ করবে এই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি এখন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট।

কাবুল থেকে দূতাবাসকর্মীসহ নিজ দেশের নাগরিকদের বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার তিন হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিলেও তালেবানরা দ্রুত কাবুলের কাছাকাছ চলে আসায় শনিবার পাঁচ হাজার মার্কিন সেনারা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাইডেন।

জালালাবাদের পতন হওয়ায় পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরের দিকে যাওয়া মহাসড়কটি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এটি স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান একটি মহাসড়ক।

শনিবার আফগানিস্তানের টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির ভাষণ প্রচারিত হয়েছে। ভাষণে আশরাফ গনি তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সেনাদের তালেবানের বিরুদ্ধে এক্যবদ্ধ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন তালেবানের হামলায় বেসামাল হয়ে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। দেশে তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব আফগানিস্তানের অধ্যাপক হারুন রহিমী বলেন, আফগান সরকার কোনো অবস্থাতেই সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। তালেবানের একের পর এক অঞ্চল দখলে সরকারের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে গেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তানের ২৪টি প্রদেশের মধ্যে ২৩টির রাজধানী এখন তালেবানদের দখলে।

আফগানিস্তানের চতুর্থ বৃহত্তম শহর এবং বলখ প্রদেশের রাজধানী মাজার-ই-শরীফ দখল করে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই জালালাবাদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় তালেবানরা, মাজার-ই-শরীফ আয়ত্বে নিতেও কোন সংঘাতের প্রয়োজন হয়নি।

বলখের একজন আইনপ্রণেতা আবাস ইব্রাহিমজাদা বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, জাতীয় আর্মি প্রথমে আত্মসর্মণ করে, এটা পরে সরকার নিয়ন্ত্রিত বাহিনীগুলোকে এবং অন্য মিলিশিয়া বাহিনীদের হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য করে।