কাবুলে আটকে পড়া ১২ বাংলাদেশি মার্কিন এয়ার বেসে

26

বিমানবন্দরের বাইরে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় কাবুলে আটকে পড়া ১৫ বাংলাদেশির মধ্যে ১২ জন মার্কিন এয়ার বেসে পৌঁছেছেন। ওই ১২ জনের সঙ্গে বাংলাদেশে পড়ুয়া আফগান নারী শিক্ষার্থীদেরও এয়ার বেসে নেয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনকে উদ্বৃত করে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো খুদেবার্তায় পিআরও তৌহিদ বলেন, চার্টার্ড ফ্লাইটে উদ্ধারকৃতদের দ্রুতই বাংলাদেশের নিয়ে আসা হবে। তবে তাদের কাবুল, কাতার না আশপাশের কোনো মার্কিন এয়ার বেসে নেয়া হয়েছে তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে পারেনি সেগুনবাগিচা।

উল্লেখ, দিনে রাজধানীর ইস্কাটনস্থ বিস মিলনায়তনে এক সেমিনার শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন কাবুলে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা নিরাপদ স্থানে রয়েছেন। তারও আগে মন্ত্রণালয় জানায়, বিস্ফারণের পর বিমানবন্দর এলাকা থেকে ১৫ বাংলাদেশি এবং চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ১৬০ জন আফগান শিক্ষার্থী নিরাপদ স্থানে রয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার ব্যবস্থাপনায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের ঢাকা ফেরার কথা ছিল। তারা বুধবার দুপুর থেকে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ফ্লাইট পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। কাবুল বিমানবন্দরের আবে গেটের অদূরে ব্যারন হোটেলের কাছের ওই জোড়া বিস্ফারণে মার্কিন সেনা, বেসামরিক আফগান নারী-শিশুসহ দেড় শতাধিক নিহত হয়েছেন।

আহত আরও অন্তত ৫ শতাধিক। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা ১৫ বাংলাদেশির একজন রাজীব বিন ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার বেলা দুইটা থেকে আমরা বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা গেটের বাইরে ছিলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে আমরা সবাই সুস্থ আছি। রাজীব বিন ইসলাম আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর ওয়্যারলেসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় আবারো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবো। পরবর্তী সময়ে যখন বিমানবন্দরে আসতে বলা হবে তখন আসবো। রাজীব জানান, গত মঙ্গলবার তাদের দেশের উদ্দেশে যাত্রার কথা ছিল। কিন্তু তখন অনুমতি না পাওয়ায় বিমানবন্দরের পৌঁছার আগে মাঝপথ থেকে তাদের ফিরে যেতে হয়েছিল। পরে বুধবার বিমানবন্দরে এসে তারা জানতে পারেন, বৃহস্পতিবার তাদের জন্য অনুমতি রয়েছে। কিন্তু বিস্ফোরণের ঘটনায় দ্বিতীয় দফার চেষ্টাতেও দেশে ফিরতে পারলেন না।
উল্লেখ্য, এর আগে আফগানিস্তানের মোবাইল অপারেটর ওয়্যারলেসে কর্মরত ৬ বাংলাদেশি কর্মকর্তাকে কাতারস্থ মার্কিন এয়ার বেসে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়। ওই তালিকায় রয়েছেন কাবুলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে কর্মরত ফারুক হোসেন ও মহিউদ্দিন। মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ফ্লাইটে কাবুল থেকে কাতারে যান। একই দিনে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের তিন কর্মকর্তাকে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে কাবুল থেকে কাজাখস্তানের রাজধানী নুর সুলতানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে আগেই খবর বেরিয়েছে।