ভারতে আটক ঢাকার পুলিশ কর্মকর্তাকে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ

82

বাংলাদেশ পুলিশ ভারতে আটক হওয়া রাজধানী ঢাকার পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিতে অবস্থিত ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবিকে চিঠি দিয়েছে।

ঢাকায় বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মহিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান গত রোববার বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবি শাখা থেকে ভারতের এনসিবিকে চিঠি পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত দিল্লি এনসিবির পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া মিলবে।

সোহেল রানার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়েরকৃত প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে সেই মামলার তথ্য-উপাত্ত সংযুক্ত করে ভারতের এনসিবি কে আরেকটি চিঠি দুই এক দিনের মধ্যে

পাঠানো হবে বলে মহিউল ইসলাম জানিয়েছেন।তিনি বলেন যেহেতু সোহেল রানা সেখানে গ্রেফতার হয়েছেন তাই সে দেশের আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। তবে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে সোহেল রানাকে ফেরত আনতে যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার তা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালানোর সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের চ্যাংড়া বান্দায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ’এর হাতে শুক্রবার আটক হন সম্প্রতি বহুল আলোচিত ঢাকার বনানী থানার পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানা।তার বোন সোনিয়া মেহজাবিনের প্রতিষ্ঠিত ই কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৬ ই আগস্ট সংস্থাটির গ্রাহক মোহাম্মদ তাহেরুল ইসলাম ১,১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ই-অরেঞ্জের ১০ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় সোহেল রানা ছাড়াও আসামী করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, চিফ অপারেটিং অফিসার আমান উল্লাহ, নাজনিন নাহার বিথি, কাওসার, কামরুল হাসান, আব্দুল কাদের, নূরজাহান ইসলাম সোনিয়া ও রুবেল খান।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন সোহেল রানার অপরাধ লব্ধ অর্থ সম্পদ আছে কি না, সেই বিষয়ে ইতিমধ্যে সংস্থাটি তদন্ত শুরু করেছে। সোহেল রানার অর্থ সম্পদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজউক, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংস্থায় চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন তাদের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য এসে এখনও পৌঁছায় নাই।

এদিকে,ই-অরেঞ্জের কয়েকশ গ্রাহক ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানব বন্ধন করে তাঁদের টাকা আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত বনানী থানার পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানাকে দ্রুত দেশে এনে শাস্তির আওতায় আনা ও তাঁদের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মানব বন্ধনে বক্তারা বলেন মামলা দায়ের করার পর নজরদারির আওতায় থাকা সোহেল রানার দেশত্যাগের বিষয়টি রহস্য জনক। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া তাঁর দেশ ত্যাগ করা সম্ভব নয় বলে অভিযোগ করে বক্তারা প্রশাসনের দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে তাঁদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।