আফগান পরীক্ষায় পাকিস্তানকে জেতালেন আসিফ আলী

30

পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল ১৪৮ রান। আফগানিস্তানের এই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে রীতিমত পরীক্ষায় পড়তে হয়েছে বাবর আজমদের। ১৭তম ওভারে সেট ব্যাটসম্যান বাবরকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে দিয়েছিলেন রশিদ খান। পরের ওভারে নাভিন অভিজ্ঞ শোয়েব মালিককে ফেরালে ম্যাচ পরিস্থিতি তখন পেন্ডুলাম! দুলতে থাকা সেই পরিস্থিতিতে আবারও পাকিস্তানের ত্রাতা হলেন আসিফ আলী। ১৯তম ওভারে ৪টি ছয় মেরে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের ৫ উইকেটের জয়! তাতে টানা তিন জয়ে সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে ফেলেছে তারা।

মুহূর্তেই যে এই ফরম্যাট রং বদলায় তার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই ম্যাচ। লক্ষ্যে খেলতে নামা পাকিস্তানের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। তার পরেও দলীয় ১২ রানে রিজওয়ানের বিদায় হলে ম্যাচটা সামলেছেন ফখর জামান ও বাবর আজম।

ফখরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নবি। ২৫ বলে ফখর ৩০ রানে ফিরলেও অধিনায়ক বাবর প্রান্ত আগলে দায়িত্ব সামলেছেন। মোহাম্মদ হাফিজ ১০ রানে ফিরলে মালিক লক্ষ্য তাড়ায় কার্যকারী হওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাবরকে ৫১ রানে ফিরিয়ে মোমেন্টাম বদলে ফেলেছিলেন মূলত রশিদ খান। টি-টোয়েন্টি সুলভ না হলেও পাকিস্তান অধিনায়ক ৪৭ বলে ৪টি চারে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেছেন। পরের ওভারে শোয়েব মালিকও ১৫ বলে ১৯ রান করে ফিরলে আফগানিস্তান ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় পেয়ে গিয়েছিল।

শেষ ১২ বলে তখন পাকিস্তানের প্রয়োজন ২৪ রান। তখনই আবির্ভূত হন আসিফ আলী। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ত্রাতা হয়ে ধরা দেন ১৯তম ওভারে। চারটি ছয় মেরে আফগানদের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়েছেন। তাতে ১৯ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় পাকিস্তান। ম্যাচসেরাও তিনি। ২৬ রানে ২টি নিয়ে আফগানদের সেরা বোলার রশিদ খান।

দুবাইয়ে শুরুতে টস জিতে ৬ উইকেটে আফগানরা তুলেছিল ১৪৭ রান। কিন্তু প্রথমে যেমন পরিস্থিতি ছিল, তাতে এই স্কোর করাই অসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল! পাকিস্তানের বোলিং তোপে ৭৬ রানে তারা হারায় ৬ উইকেট! সেখান থেকে দলকে মাথা তুলে দাঁড়াতে সাহায্য করেছেন অধিনায়ক নবি ও গুলবাদিন নাইব। ৩২ বলে ৩৫ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন নবি। তাতে ছিল ৫টি চার। সঙ্গী নাইবও খেলেছেন কার্যকরী ইনিংস। ২৫ বলে ৪টি চার ও ১ ছক্কায় ৩৫ রানে অপরাজিত থেকেছেন।

পাকিস্তানের হয়ে ২৫ রানে দুটি নেন ইমাদ ওয়াসিম। একটি করে উইকেট নেন শাহীন আফ্রিদি, হারিস রউফ, হাসান আলী ও শাদাব খান।